স্বাধীনতা নয়, সরাসরি স্পেনের কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে যাচ্ছে কাতালোনিয়া

 

স্বাধীনতা নয়, সরাসরি স্পেনের কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে যাচ্ছে কাতালোনিয়া। স্পেন সরকারের বেঁধে দেয়া সময়সীমার মধ্যে যথার্থ উত্তর দিতে পারেন নি কাতালোনিয়ার আঞ্চলিক সরকারের প্রেসিডেন্ট কার্লেস পুইগডেমন্ট। ফলে কাতালোনিয়া স্পেনের সঙ্গেই থাকছে বলে ঘোষণা দিয়েছেন রাজা ষষ্ঠ ফিলিপ। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। এতে বলা হয়েছে, গত ১লা অক্টোবর কাতালোনিয়ার স্বাধীনতার দাবিতে অনুষ্ঠিত হয় গণভোট। এতে শতকরা ৯০ ভাগ মানুষ স্বাধীনতার পক্ষে রায় দেয়।
তবে ভোটার উপস্থিতি ছিল খুবই কম। এমন ম্যান্ডেট পেয়ে কার্লেস পুইগডেমন্ট স্বাধীনতার ঘোষণা দেন আঞ্চলিক পার্লামেন্টে। তবে তার কার্যকারিতা স্থগিত রাখেন আলোচনার পথ খোলা রাখতে। কিন্তু স্পেন সরকার তার প্রস্তাবে সাড়া না দিয়ে উল্টো আলটিমেটাম দেয় তাকে। বলা হয়, তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন কিনা সেটা নিশ্চিত করে জানাতে। বৃহস্পতিবার ছিল এ সময়সীমা। কিন্তু এর মধ্যে যথাযথ জবাব দেন নি তিনি। ফলে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী মারিয়ানো রাজয় তার মন্ত্রীপরিষদকে নিয়ে বসছেন। সেখানে কাতালোনিয়ায় শায়ত্তশাসন নয়, স্পেনের কেন্দ্রীয় শাসন জারির ঘোষণা আসতে যাচ্ছে। ১লা অক্টোবরে অনুষ্ঠিত গণভোটকে অবৈধ বলে আখ্যায়িত করেছে স্পেন সরকার। তবে কাতালান নেতা কার্লেস পুইগডেমন্টের দাবি, তিনি স্বাধীনতার পক্ষে ম্যান্ডেট পেয়েছেন। কেন্দ্রীয় সরকার ও আঞ্চলিক সরকারের মধ্যে এই দ্বন্দ্বের ফলে স্পেনে গত চার দশকের মধ্যে সবচেয়ে জটিল রাজনৈতিক সঙ্কট সৃষ্টি হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় কেন্দ্রীয় সরকার কাতালানের শায়ত্তশাসন কেড়ে নিয়ে, সেখানে সরাসরি তাদের শাসন জারির প্রস্তুতি নিয়েছে। এ জন্য তাদেরকে স্পেনের সংবিধানের ১৫৫ নম্বর ধারা সক্রিয় করতে হবে। এ ধারার অধীনে আঞ্চলিক সঙ্কটের কারণে সরকারি কেন্দ্রীয় শাসন জারি অনুমোদিত। আজ শনিবার এ অনুচ্ছেদ সক্রিয় করার কথা রয়েছে। যদি এটা করা হয় তাহলে স্পেনে প্রথমবারের মতো সংবিধানের এই ধারাটির ব্যবহার হতে যাচ্ছে। এর ফলে কাতালানের পুলিশ বাহিনীও চলে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে। তবে এখানে আরেকটি কথা বলে রাখা ভাল। তা হলো, সংবিধানের ১৫৫ নম্বর অনুচ্ছেদ কিন্তু কোনো শায়ত্তশাসিক অঞ্চলের পূর্ণাঙ্গ ক্ষমতা স্থগিত করতে বা বাতিল করতে পারে না কেন্দ্রীয় সরকার। এই অনুচ্ছেদ সক্রিয় করা হলে কার্লেস পুইগডেমন্ট আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতা ঘোষণার কথা বলেছেন। এখন দেখার বিষয় স্পেনের সবচেয়ে সম্পদশালী কাতালানের ভবিষ্যত কোনদিকে যায়।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *