উত্তরায় গভীর রাতে কলেজ দখল ও ভাংচূর, ছাত্র-ছাত্রীরা রাস্তায়

সারাদেশ প্রতিবেদক ॥

রাজধানীর উত্তরায় অবস্থিত ৭নং সেক্টরের ৫নং রোডের ৫নং বাড়ীতে অবস্থিত ঢাকা নর্দান সিটি কলেজে শুক্রবার গভীর রাতে কে বা কাহারা কলেজের মূল্যবান মালামাল, ছাত্রদের সার্টিফিকেট ও জরুরী অন্যান্য কাগজপত্র লুটপাট করে নিয়ে যায় বলে জানা গেছে।

আমাদের প্রতিনিধি জানান, তিনি খবর পেয়ে উপস্থিত হলে এলোমেলো হতাশ হয়ে মুখে অন্ধকার নিয়ে বসে থাকা ছাত্র-ছাত্রী শিক্ষকরা সাংবাদিক পরিচয়ে এগিয়ে আসেন। তাদের দেয়া একটি সাধারণ ডায়েরীর সূত্র ধরে বিস্তারিত খোলসা হয়। কলেজের অধ্যক্ষ ফেরদৌসী নাজনীন দীর্ঘদিন যাবত কলেজ পরিচালনা করতে অপারগতা প্রকাশ করায় শিক্ষকদের কেউ শিক্ষা বোর্ডের নিকট থেকে দ্বায়িত্ব নিয়ে তা পরিচালনা করে আসছিল বলে জানা যায়। কিন্তু জায়গার/বাড়ীর মালিক ও অধ্যক্ষার গোপন সমাঝোতায় উচ্ছেদের জন্য কোন নোটিশ বা অবহিত না করে গভীর রাতে তালা ভেঙ্গে মূল্যবান সামগ্রী ও সার্টিফিকেট সরিয়ে কলেজ বিন্ডিং ভেঙ্গে ফেলা হয়।

উপস্থিত হয়ে যার প্রমান যত্রতত্র আসবাবপত্র কাগজপত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে পরে থাকতে দেখা যায়। উপস্থিত শিক্ষকরা ও জিডির সূত্র জানা যায় বাড়ীর মালিক ডঃ শারমিন ইসলাম, ঢাকা নর্দান সিটি কলেজের অধ্যক্ষা ফেরদৌসী নাজনীন এবং অফিস সহকারী সোহেল রহমান এই ঘটনার সাথে জড়িত বলে জানা গেছে। সূত্র আরোও জানায় এই ভাংচূর এবং লুটপাটের সময় কিছু সন্ত্রাসী বাহিনীর উপস্থিতি চোখে পরেছে।

এই ভাঙ্গচুর ঘটনার নেপথ্যে ডা: খালদুন নামের ইবনে সিনার একজন চিকিৎসকের নাম উঠে এসেছে। অভিযুক্ত সবার সঙ্গে ল‌্যান্ড ও সেল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয় কিন্তু কেউ ফোন রিসিভ করেনি। আমাদের এই রিপোর্ট লিখা অব্দি উত্তরা পশ্চিম থানার কর্মকর্তা সূকান্ত উপস্থিত ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষকদের থানায় যাবার তাড়া দিচ্ছিলো। তার কাছে জানতে চাইলে স্পষ্ট কোন তথ্য পাওয়া যায়নি।

তবে, ভুক্তভূগী ছাত্র শিক্ষকদের সমন্বয়কারী ইসরাত জাহান জানান উত্তরা পশ্চিম থানায় তাদের ডেকে নিয়ে তাদের অস্থানের পক্ষে বৈধ কাগজ পত্র দেখাতে বলা হয। কিন্তু তাদের এই সকল কাগজ পত্র মূলত যা শিক্ষা কর্মকর্তা এবং শিক্ষা দপ্তর গুলোর দেখার কথা। ইসরাত জাহান আরো বলেন, ‘আমরা আমাদের কলেজের মূল্যবান সার্টিফিকেট এবং কাগজ ও আজবাব প্রত্র লুট হয়েছে সাথে কলেজ বিল্ডিং বন্ধের দিনে ভাঙ্গা হয়েছে। যা সন্ত্রাসী কর্মকান্ড বিবেচিত হয় মনে করে আমরা আইনের আশ্রয় নিতে থানায় গিয়েছি। সেখানে আমাদের শিক্ষকতার পরিচিতি কেন দিতে হবে তা বোধগম্য নয়। আমরা মনে করছি এর মধ্যে কোন দূরভিসন্ধী আছে।” পরিস্থিতি এমন হলে তারা আন্দোলনে নামবেন বলে জানান। এই বিষয়ে উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে বেশ কয়েকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয়, কিন্তু নেটওয়াক জটিলতার কারণে তা সম্ভব হয়ে উঠেনি।
চলবে –

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *