আজ বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২০, ১১:৫৯ অপরাহ্

নিজেস্ব সংবাদদাতা – প্রায় দুই বছর যাবৎ রাজউকের নিয়ম নীতি না মেনে , অনিয়মের সাথে নির্মাণ কাজ চালাচ্ছে রাজধানীর দক্ষিণখান গাওয়াইর স্কুল রোড অবস্থিত ইউরো- বাংলা অ্যাপার্টমেন্ট । ভবনটির সম্পর্কে এলাকাবাসী রয়েছে বিস্তর অভিযোগ । নির্মাণ কাজে নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকায় বারবার অভিযোগ দিলেও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি ইউরো-বাংলা কতৃপক্ষ।

মামলার সূত্রমতে , গত ২৪ ফেব্রুয়ারি সকালে বিল্ডিঙের কাজে আসে জাহাঙ্গীর হোসেন । সে মূলত এই বিল্ডিং এ মালিক পক্ষের নিয়োজিত কন্টাকটার রফিক এর দলে কাজ করত । বাদীর অভিযোগ বিকাল আনুমানিক ০৩ ঘটিকার সময় জাহাঙ্গীর তার পাওনা টাকা চায় কন্টাকটার রফিকের কাছে।কিন্তু রফিক জানায়, ভবনের মালিক এসেছে , পাওনা টাকা তার নিকট চাইতে জাহাঙ্গীরকে উস্কে দেয় । জাহাঙ্গীর পাওনা টাকা চাইতে মালিকের নিকট গেলে মালিক হারুনুর রশীদ বাকবিতন্ডার এক পর্যায়ে , জাহাঙ্গীরকে মারধর করে । বিল্ডিং মালিক টাকা রফিকের নিকট থেকে নিতে বলে । টাকা রফিকের নিকট চাইলেই বাধে ঝামেলা । এই নিয়ে রফিকের সাথে জাহাঙ্গীরের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয় । বিল্ডিংটির ৫ম তলায় বেলকুনিতে বিকেল তিনটায় কাজ করবার সময় পেছন থেকে রফিক ইচ্ছা করেই ধাক্কা দেয় জাহাঙ্গিরকে । জাহাঙ্গীরের ভাষ্য হত্যা করবার উদ্দেশ্যেই তাকে ধাক্কা দিয়ে নীচে ফেলে দেয় সে ।

উপড় থেকে নীচে পড়ে গেলে এলাকার কিছু পথচারী এবং কয়েকজন তাকে দ্রুত নিকটবর্তী কে,সি হাসপাতালে নিয়ে যায় । অবস্থার অবনতি হলে জাহাঙ্গীরের আত্মিয়-স্বজন তাকে জাতীয় পঙ্গু হাসপাতালে নিয়ে যায় । সেখানে তার চিকিৎসা হয় দীর্ঘ সময় । এই সময় অর্থাভাবে চিকিৎসায় ব্যয় বহনে অসুবিধায় পড়লে , জাহাঙ্গীরের পিতা পাওনা টাকার জন্য রফিকের কাছে যায় । রফিক বলে ” আমি টাকা দিতে পারি তবে তোমার ছেলেকে বলতে হবে , আমি ধাক্কা দেই নাই “। কারণ ইতিমধ্যেই চাউর হয়ে গেছে জাহাঙ্গীরের বাবা মামলা করতে পারে ।

বিল্ডিং এর আশপাশে ঘুরে আমাদের প্রতিনিধি এই ঘটনার সততা নিশ্চিত হয়েছে যে , রফিক কাজের বাহানায় নানান সময় গালমন্দ করত । মাঝে মাঝে তার কর্মচারীদের গায়েও হাত দিত বলে অভিযোগ পাওয়া যায় । তারা সকলেই দিনমজুর এই ভুক্তভোগির হত্যা চেষ্টার বিচার চান ।

উল্লেখ্য যে , গত২৪/০৩/২০২০ইং তারিখ জাহাঙ্গীরের পিতা আনোয়ার হোসেন নিজে বাদী হয়ে দক্ষিণখান থানায় একটি মামলা দায়ের করেন যাহার নং ৫১। মামলা করার পর ১ নং আসামী কন্টাকটার রফিক ও২ নং আসামী হারুনুর রশিদ মামলার বাদী আনোয়ার হোসেনকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিচ্ছে বলে বাদী অভিযোগ করেন । মামলা হওয়ার ১ সপ্তাহ পরেও কোন আসামীকে পুলিশ গ্রেফতার করার সক্ষম হয়নি। উক্ত বিষয় সম্পর্কে মামলার আই,ও কে এম মাহামুদুল হাসান আমাদের প্রতিবেদককে জানান,আসামী পলাতক রয়েছে, ধরার চেষ্টায় আছি । আমাদের প্রতিবেদক পাল্টা প্রশ্ন করেন বাদি অভিযোগ করছেন আসামীরা নিজের বাড়ীতেই অবস্থান করে । আইও বলেন আমি যখন যাই তখন পাই না । এই “আইও যখন যান আসামীদের তখন পান না ” এমন কথাতেই সবায় তদন্তকারী কর্মকর্তার গাফিলতি খুজে পাচ্ছেন বলে জানান । অপরদিকে মামলা করায়, বাদীকে আসামীরা হুমকী ধমকী দিচ্ছে । থানার ওসির সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও একাধিকবার তার ফোন ব্যস্ত পাওয়া যায় । কি এক রহস্যজনক কারণে , তাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে না এমন প্রশ্নে সংশ্লিষ্টরা অভিযোগ করেন , পুলিশ প্রশাসনের গাফিলতি ও গরিমশিতেই গ্রেফতার হচ্ছে না আসামীরা ।