মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৫৯ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
২০২০ সালে যে ১০টি দক্ষতা তরুণদের থাকা চাই উত্তরায় শিশু হত্যার প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ করোনাভাইরাসে মারা গেলেন আরও ৩৫ জন গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা মিলেছে আরও দুই হাজার ৯৬০ জনের দেহে উত্তরায় সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করলেন মোঃ সিদ্দিকুর রহমানের প্রতিনিধি তিতাসের লাইসেন্স নিয়ে কন্ট্রাক্টারীর আড়ালে সাগরের অবৈধ গ্যাস সংযোগ উত্তরা আল আশরাফ হাসপাতাল যেন সাক্ষাৎ মূত্যু কূপ ঢাকা ১৮ আসনে প্রার্থীতার দৌড়ে যারা এগিয়ে জুমার নামাজেই সাংবাদিক খোকন এর উপর কাউন্সিলর শামীম এর সন্ত্রাসী হামলা আজ ৫১ জনের প্রাণ কেড়ে করোনাভাইরাস ঈদে চলবে গণপরিবহন : ওবায়দুল কাদের উত্তরায় প্রতারকরা কোচিং সেন্টারের আড়ালে গড়ে তুলেছে অনুমোদনহীন হারবাল পন্যের এমএলএম ব্যবসা

সমুদ্রের তীরে উঁচু স্থাপনা নির্মাণ না করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

Reporter Name / ১১ Time View
Update : বুধবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২০

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥

কক্সবাজার সমুদ্রের তীরে উঁচু স্থাপনা নির্মাণ না করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, আমরা সমুদ্রের তীর ঘেঁষে উঁচু স্থাপনা নির্মাণের অনুমতি দেব না।বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) নিজের তেজগাঁওয়ের কার্যালয়ে (পিএমও) কক্সবাজার এলাকায় নির্মাণাধীন তিনটি স্পেশাল ট্যুরিজম পার্কের (বিশেষ পর্যটন উদ্যান) মহাপরিকল্পনা উপস্থাপনা দেখার সময় এ নির্দেশ প্রদান করেন।

বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষকে (বেজা) মহেশখালীতে সোনাদিয়া ইকো ট্যুরিজম পার্ক এবং টেকনাফ উপজেলায় নাফ ট্যুরিজম পার্ক (এনএএফ) ও সাবরং ট্যুরিজম পার্ক স্থাপনের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

মহাপরিকল্পনার লক্ষ্য হলো- বাস্তুসংস্থান সংক্রান্ত ভারসাম্য এবং জীববৈচিত্র্য, দেশের কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও পরম্পরাকে রক্ষা করে পর্যটনবান্ধব অঞ্চল গড়ে তোলা এবং কক্সবাজার জেলার আওতাধীন বিভিন্ন পর্যটন এলাকাগুলোর মধ্যে সেতুবন্ধন রচনা করা।

প্রধানমন্ত্রী ভূমিকম্প, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের মতো দুর্যোগ সহনশীল করে ট্যুরিজম পার্কের বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্টদের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এই অঞ্চলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অক্ষুণ্ন রেখেই ট্যুরিজম পার্ক নির্মাণ করতে হবে।

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতকে বিশ্বের সর্ববৃহৎ বালুময় সমুদ্র সৈকত আখ্যায়িত করে সরকার প্রধান বলেন, ‘এই ৮০ মাইল দীর্ঘ সমুদ্র সৈকত বিশ্বের অন্যতম সুন্দর একটি পর্যটন কেন্দ্র।’

প্রধানমন্ত্রী সাবরং ট্যুরিজম পার্কটি কেবলমাত্র বিদেশিদের জন্যই নির্মাণের নির্দেশনা দেন। তিনি প্রয়োজনীয় সকল সুযোগ-সুবিধা সংবলিত করে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্নভাবে এই পার্কটি নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃক্ষকে নির্দেশ দিয়ে বলেন, এটি এমনভাবে নির্মাণ করতে হবে যাতে অন্যান্য দেশের পর্যটকেরা এর প্রতি আকর্ষিত হয় এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে এখানে আসে।

নাফ ট্যুরিজম পার্কের বিষয়ে শেখ হাসিনা আগামী তিন বছরের মধ্যে নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন, যাতে তিনি নিজে এর উদ্বোধন করতে পারেন। তিনটি ট্যুরিজম পার্কে আরও নানারকম সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়েও তিনি এ সময় সংশ্লিষ্ট কতৃর্পকে নির্দেশনা প্রদান করেন।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সাবেক অধ্যাপক খায়রুল আনাম অনুষ্ঠানে সাবরং এবং নাফ ট্যুরিজম পার্কের মাস্টারপ্ল্যানের বিভিন্ন উল্লেখযোগ্য দিক উপস্থাপন করেন। অন্যদিকে বালাকৃষ্ণাণ সুরেশ মাহিন্দ্র ভিডিও প্রেজেন্টেশনের সাহায্যে সোনাদিয়া ইকো ট্যুরিজম পার্কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেন।

সোনাদিয়া ইকো ট্যুরিজম পার্কের মাস্টারপ্ল্যান তৈরির পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠান প্রধানমন্ত্রীকে আশ্বাস প্রদান করে যে, আগামী ২৪ মাসের মধ্যেই এখানে পর্যটকরা পরিভ্রমণ করতে পারবেন এবং পার্কটিকে সম্পূর্ণ রূপ দিতে ৯ বছর সময় লাগবে।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) সমুদ্র তীরবর্তী অঞ্চলের বাস্তুগত ভারসাম্য সুরক্ষা এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করে এই ট্যুরিজম পার্কটি নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

সোনাদিয়ায় দেশের প্রথম ইকো ট্যুরিজম পার্ক নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যে বেজা ‘মাহিন্দ্রা কনসাল্টিং ইঞ্জিনিয়ার্স’ এবং ‘ডেভকন কনসালটেন্টস লিমিটেড’কে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিযুক্ত করেছে।

কক্সবাজারের আওতাধীন সাবরং এবং নাফ ট্যুরিজম পার্ক স্থাপনের জন্য বাংলাদেশের ডেভেলপমেন্ট ডিজাইন কনসালটেন্ট এবং কোরিয়ার দোহওয়া (ডিওএইচডব্লিউএ) কনসালটেন্ট লিমিটেডকে পরামর্শক সংস্থা হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক জুয়েনা আজিজ, পিএমও সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া এবং প্রেস সচিব ইহসানুল করিম অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে বেজা’র নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী তিনটি মাস্টারপ্ল্যানের বিশদ বর্ণনা উল্লেখ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দেয়া সর্বশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী এক মাসের মধ্যে এই মাস্টারপ্ল্যান চূড়ান্ত করা হবে।

About The Author


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category